নেপালে গ্রেপ্তার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ওলি, হাসিনার পরিণতির সাথে তুলনা ও আইনি ভবিষ্যৎ – বর্তমান নিউজ

বাংলাদেশ ও নেপালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দুই প্রাক্তন রাষ্ট্রনেতার পরিণতি বর্তমানে একবিন্দুতে মিলেছে। ‘জেন জি’ আন্দোলন দমনে নিষ্ঠুরতার অভিযোগে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ড দিলেও, নেপালের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলিকে শনিবার ভোরে তাঁর নিজ বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর সঙ্গে প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককেও আটক করা হয়েছে। ওলির বিরুদ্ধে অভিযোগ, গত বছরের সেপ্টেম্বরে ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন পুলিশি সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে তিনি ব্যর্থ হয়েছিলেন, যার ফলে ১৯ জন আন্দোলনকারীর মৃত্যু হয়।
বাংলাদেশের ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে উসকানিমূলক বক্তব্য এবং আন্দোলনকারীদের ওপর প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশের মতো একাধিক অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে সর্বোচ্চ সাজা শুনিয়েছে। অন্যদিকে, নেপালের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিশনের রিপোর্টে ওলিকে গুলিচালনা বন্ধ করতে না পারার জন্য দায়ী করা হয়েছে। দুই নেতার বিরুদ্ধেই রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের অভিন্ন অভিযোগ থাকলেও, আইনি পরিণতির ক্ষেত্রে বড় ধরনের পার্থক্য পরিলক্ষিত হচ্ছে। হাসিনার ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলেও ওলির ভাগ্য কোন দিকে মোড় নেবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।
আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, ওলি এবং রমেশ লেখকের মৃত্যুদণ্ড হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। নেপালের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, আন্দোলন দমনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার দায়ে সর্বোচ্চ দশ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। ফলে বাংলাদেশের মতো চরম দণ্ড না হলেও, ৭৪ বছর বয়সী এই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে দীর্ঘ সময় কারাবাস করতে হতে পারে। বর্তমানে নেপালের রাজনৈতিক পরিস্থিতি থমথমে এবং ওলির সমর্থকরা এই গ্রেপ্তারকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে দেখলেও, কমিশন তাদের তদন্তে অনড় রয়েছে।