তোলা দিতে নারাজ, ব্যবসায়ীকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে মার

শুক্রবার রাতে বরানগরে সুদীপ্ত ঘোষ নামের এক ব্যবসায়ীকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠল তৃণমূলের এক শ্রমিক নেতার ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে। ওই ব্যবসায়ীর অভিযোগ, তোলার টাকা না দেওয়ায় তাঁকে তুলে নিয়ে গিয়ে ওই নেতার সামনেই বেধড়ক মারধর করা হয়েছে। তাঁকে টেনে হিঁচড়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার সেই ছবি ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। যদিও সেই ছবির সত্যতা যাচাই করেনি ‘বর্তমান’। এদিকে, এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তৃণমূলের ওই শ্রমিক নেতা। বরানগর পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের ২ নম্বর দেশবন্ধু রোডে একটি আবাসনের দোতলায় থাকেন ইন্টিরিয়র ডিজাইনার ওই ব্যবসায়ী। এদিকে পুলিশ কমিশনার প্রবীণ ত্রিপাঠী জানিয়েছেন, এই ঘটনায় রাহুল যাদব ও আয়ূষ কুণ্ডু নামে দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সুদীপ্তবাবু শনিবার বলেন, সম্প্রতি বারাসতের ময়না এলাকায় একটি অভিজাত আবাসনে এক আইনজীবীর ফ্ল্যাটে ইন্টেরিয়র ডিজাইনের কাজের বরাত পান। তিনি প্রথম দিকে পেমেন্ট ঠিকঠাকই পেয়েছেন। কিন্তু প্রায় আশি শতাংশ কাজ হয়ে গেলেও ওই আইনজীবী স্নেহাশিস চট্টোপাধ্যায় টাকা দিতে চাননি। এরপর সুদীপ্তবাবু কাজ বন্ধ করে দেওয়ার হঁশিয়ারি দিলে পালটা হুমকি দেন ওই আইনজীবী। এখন তিনি থাকেন টবিন রোডে। ওই আইনজীবী বিষয়টি জানান তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের নেতা শংকর রাউতকে। ব্যবসায়ীর অভিযোগ, শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ শংকর রাউতের ঘনিষ্ঠ চারজন আমার ফ্ল্যাটে এসে হাজির হয়। তারা জানায়, ‘দাদা ডাকছে আপনাকে।’ তিনি রাজি না হওয়ায় শংকর রাউতকে ফোন করে একজন। এরপর তারা তাঁকে টেনে হিঁচড়ে মারতে মারতে নিয়ে যায় বনহুগলি যুবক সংঘ ক্লাবের সামনে। সেখানে তাঁর টাকা ছিনতাই করা হয় বলে অভিযোগ। এরপর ক্লাবের ভিতরে শংকর রাউত ও আইনজীবী স্নেহাশিস চট্টোপাধ্যায়ের সামনেই তাঁকে মারধর করা হয়। সুদীপ্তবাবু বলেন, আমার কাছে এক লক্ষ টাকা তোলা চেয়েছিল ওরা। পাশাপাশি যে টাকার কাজ করেছি, তাও ফেরত দিতে বলা হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, শংকর রাউতের ঘনিষ্ঠরা বন্দুকের বাট দিয়ে ঘাড়ে আঘাত করে। শনিবার সকালে আর জি কর হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর পর বরানগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ওই ব্যবসায়ী। তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে বিজেপি নেতা সজল ঘোষ বলেন, আক্রান্তের পাশে দাঁড়াতে এসেছি। তৃণমূলের রাজত্বে কেউ নিরাপদ নন।
শ্রমিক নেতা শংকর রাউত বলেন, সব অভিযোগ ভিত্তিহীন। যে ব্যক্তির ফ্ল্যাটে কাজের বরাত পেয়েছিলেন, সেখানে আচমকা কাজ বন্ধ করে দেওয়ায় ওই আইনজীবী আমাকে বিষয়টি মিটমাট করে দিতে বলেছিলেন। সেজন্য দু’পক্ষকে আলোচনার জন্য ডেকেছিলাম। বিধায়িকা সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, যে ফুটেজ ভাইরাল হয়েছে, সেখানে কোথাও শংকরকে দেখা যায়নি। এই ঘটনার সঙ্গে তৃণমূলের কোনও সম্পর্ক নেই।