জ্ঞানেশ কুমার উদ্ধত, তীব্র আক্রমণ মমতার

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনো প্রশ্নের যথাযথ উত্তর দিতে পারেননি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। এসআইআর পর্বে রাজ্যের মানুষের হয়রানি সম্পর্কে অভিযোগ জানাতে ৩ ফেব্রুয়ারি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে দিল্লিতে নির্বাচন সদনে গিয়েছিলেন মমতা। কিন্ত, মানুষের স্বার্থ রক্ষার্থে করা সওয়ালের উত্তর না দেওয়ায় জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ঔদ্ধত্যের অভিযোগও তুললেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
এক বৈদ্যুতিন সংবাদমাধ্যমে দেওয়া মমতার সাক্ষাৎকারের একটি অংশ শনিবার তৃণমূলের তরফে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করা হয়েছে। সেখানেই মমতাকে ক্ষোভ উগরে দিতে শোনা গিয়েছে মুখ্য নির্বাচন কমিশনের আচরণ নিয়ে। মমতার কথায়, প্রোটোকল অনুযায়ী তিনি (মুখ্য নির্বাচন কমিশনার) কিন্তু আমার অনেক নীচে। কিন্তু, তাঁরা গ্যাট হয়ে বসে রইলেন। কেউ একবার উঠে দাঁড়ানোর সৌজন্য দেখালেন না। আমরা কিন্তু ফুল মিষ্টি নিয়ে গিয়েছিলাম। তাছাড়াও চারটের সময় সাক্ষাতের জন্য নির্দিষ্ট করা হলেও, অফিসের বাইরে ড্রয়িং রুমে তাঁদের ২০ মিনিট বসিয়ে রাখা হয়েছিল। বাইরের কোনও মিডিয়াকেই তাঁদের বৈঠক সরাসরি সম্প্রচার বা রেকর্ড করার অনুমতি না দেওয়া নিয়েও এদিন ফের একবার সরব হয়েছেন মমতা।
ওইদিন মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির নামে মানুষের হয়রানি নিয়ে প্রশ্ন করেন মমতা।
আগে এসআইআরে কোনোদিন লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি বলে কিছু ছিল না। কোনো নির্দিষ্ট বিধিও নেই। মুসলিম থেকে শুরু করে আদিবাসীদের নাম কাটা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। কেন তাঁদের নাম কাটা হচ্ছে? এই প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি ঠিক রাজ্যে নির্বাচনের আগে নিবিড় সংশোধনী করানো কারণও জানতে চান মমতা। সে প্রশ্নের উত্তর না থাকাতেই জ্ঞানেশ কুমার ঔদ্ধত্য দেখাতে শুরু করেন বলে মমতার অভিযোগ এদিন প্রকাশ্যে এসেছে। এর আগে মুখ্যমন্ত্রীর লেখা ছ›টি চিঠির একটিরও উত্তর না দেওয়ায় জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ঔদ্ধত্যের অভিযোগ তুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রসঙ্গত, বাংলাকে অপমানের প্রতিবাদে ৩ ফেব্রুয়ারির বৈঠক বয়কট করে বেরিয়ে এসেছিলেন তিনি।