জিন টেস্টেই মিলবে ক্যানসারের আগাম আভাস: আধুনিক চিকিৎসার নতুন দিগন্ত – বর্তমান নিউজ

ক্যানসার শনাক্তকরণে চিকিৎসাবিজ্ঞানে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে আধুনিক জিন টেস্ট বা ‘লিকুইড বায়োপসি’। এই বিশেষ পরীক্ষার মাধ্যমে শরীরে ক্যানসার থাবা বসানোর প্রায় তিন বছর আগেই রক্তে টিউমার ডিএনএ বা জেনেটিক মিউটেশন শনাক্ত করা সম্ভব। সাধারণ পরীক্ষায় যা ধরা পড়ে না, ২০-২৫ হাজার টাকা মূল্যের এই উন্নত পরীক্ষা তা সহজেই চিহ্নিত করে ক্যানসার চিকিৎসাকে অনেক বেশি সহজ ও কার্যকর করে তোলে।
গবেষণায় দেখা গেছে, লিকুইড বায়োপসি মূলত রক্ত থেকে ‘সার্কুলেটিং টিউমার ডিএনএ’ (ctDNA) বা ক্যানসার স্টেম সেল খুঁজে বের করে। এই স্টেম সেলগুলো কেমোথেরাপির পরেও বেঁচে থাকতে পারে এবং ভবিষ্যতে ক্যানসার ফিরিয়ে আনার ক্ষমতা রাখে। বিশেষ করে স্তন, কোলন, অগ্ন্যাশয় ও লিভার ক্যানসারের মতো মারণব্যাধিগুলো প্রথম বা দ্বিতীয় পর্যায়েই এই পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত করা সম্ভব হয়, যা রোগীর জীবন বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তবে এই পরীক্ষার কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। জিন টেস্ট ভবিষ্যতের ঝুঁকি নির্দেশ করলেও এটি ক্যানসার হওয়ার শতভাগ নিশ্চয়তা দেয় না এবং অনেক সময় ‘ফলস পজিটিভ’ ফলাফল আসার সম্ভাবনা থাকে। তাই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এই পরীক্ষা করানো উচিত নয়। মূলত যাদের পরিবারে ক্যানসারের ইতিহাস রয়েছে বা যারা আগে ক্যানসার আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হয়েছেন, তাদের জন্য এই আগাম সতর্কতা অত্যন্ত কার্যকর হলেও এটি নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিকল্প নয়।