গণভোট ও জুলাই সনদ: সংবিধান সংস্কারের পথে বাংলাদেশ

গত ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক গণভোটে ৬৮ শতাংশের বেশি ‘হ্যাঁ’ ভোট পাওয়ায় জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আইনি পথ উন্মুক্ত হয়েছে। ১২ কোটি ৭৭ লাখ ভোটারের মধ্যে প্রায় সাত কোটি ৭৭ লাখ মানুষ এই প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করেন। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা একইসঙ্গে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। সংসদীয় অধিবেশন শুরুর ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে এই পরিষদ জুলাই সনদে বর্ণিত প্রস্তাবগুলো অনুযায়ী সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করতে আইনত বাধ্য থাকবে।
সনদ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতা হ্রাস এবং রাষ্ট্রপতির এখতিয়ার বৃদ্ধির বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মানবাধিকার ও তথ্য কমিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির স্বাধীন ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া একজন ব্যক্তির সর্বোচ্চ ১০ বছর প্রধানমন্ত্রী পদে থাকার বিধানটিও কার্যকর হতে যাচ্ছে। তবে দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রীর পদ আলাদা রাখার বিষয়ে বিএনপির দ্বিমত থাকায় এই প্রস্তাবটি বাস্তবায়ন হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
সবচেয়ে বড় বিতর্কের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন প্রক্রিয়া। গণভোটের রায় অনুযায়ী উচ্চকক্ষ ‘আনুপাতিক ভোটের’ ভিত্তিতে হওয়ার কথা থাকলেও, নির্বাচনে জয়ী বিএনপি তাদের ইশতেহারে ‘আসন সংখ্যার’ ভিত্তিতে গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। সংবিধান বিশ্লেষকদের মতে, যেসব বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা আপত্তি ছিল, সেগুলো বাস্তবায়নে জয়ী দল বাধ্য নয়। ফলে জনরায়ের প্রতিফলন এবং রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারের মধ্যকার এই সমন্বয়ই হবে আগামী দিনের প্রধান চ্যালেঞ্জ।