খলিলুর রহমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পদে নিয়োগ: বিএনপিতে বিস্ময় ও বিতর্ক

নবনির্বাচিত বিএনপি সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের নিয়োগ রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক বিস্ময় সৃষ্টি করেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তার বিভিন্ন সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করা বিএনপি নেতারাই এখন এই নিয়োগে বিব্রত ও অস্বস্তিকর বোধ করছেন। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বিতর্কিত বাণিজ্য চুক্তি এবং তার নাগরিকত্ব নিয়ে ইতিপূর্বে দলটির শীর্ষ পর্যায় থেকে কঠোর আপত্তিসহ পদত্যাগের দাবি তোলা হয়েছিল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, খলিলুর রহমানের এই নিয়োগ ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন সরকারের একটি বড় ব্যতিক্রম। দলের তৃণমূল ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের অনেকে এই সিদ্ধান্তে অবাক হলেও, কেউ কেউ ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার প্রয়োজনীয়তাকে কারণ হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারতের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে তার পেশাদারিত্বকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
খলিলুর রহমান অবশ্য ‘স্বার্থের সংঘাত’ বা ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, তিনি জোর করে মন্ত্রিসভায় আসেননি। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণের মাধ্যমে দেশের স্বার্থ রক্ষার অঙ্গীকার করেন। তবে গত বছরের লন্ডন বৈঠক এবং তারেক রহমানের সাথে দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সুসম্পর্কই তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন করেছে বলে কূটনৈতিক মহলে জোরালো আলোচনা রয়েছে।