কাজের চাপে মালদহে বিএলও-র মৃত্যু, তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা

মালদহের কালিয়াচকে এসআইআর (SIR) বা বিশেষ তদন্ত প্রক্রিয়ার অতিরিক্ত মানসিক চাপ সইতে না পেরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হলো বছর ৫৬-র এক বিএলও-র। মৃত মহম্মদ আনিকুল আলম পেশায় শিক্ষক ছিলেন। পরিবারের দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজে ক্রমাগত চাপ এবং নিজের নামও ত্রুটিপূর্ণ তালিকায় ফিরে আসায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। বৃহস্পতিবার ভোরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, সেখানেই চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক। তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি পরিকল্পিতভাবে বিএলও-দের ওপর চাপ সৃষ্টি করে এই প্রক্রিয়া বানচাল করতে চাইছে। অন্যদিকে, পালটা অভিযোগে বিজেপি দাবি করেছে, তৃণমূলই সাধারণ মানুষের মধ্যে ভুল তথ্য ছড়িয়ে আতঙ্ক তৈরি করছে। ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ নিয়ে প্রশাসনের অন্দরেও তৈরি হয়েছে চাপা উত্তেজনা।
প্রয়াত আনিকুলবাবুর পরিবারে স্ত্রী ও দুই সন্তান বর্তমান। তাঁর অকাল প্রয়াণে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কালিয়াচক হাই স্কুলের এই শিক্ষক সুজাপুর বিধানসভা কেন্দ্রের ১৪৪ নম্বর বুথের দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন। বিএলও-দের কাজের ধরণ এবং অতিরিক্ত পরিশ্রম নিয়ে প্রশাসনের ভূমিকা এখন প্রশ্নের মুখে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্যের সুরক্ষার দাবি জানিয়েছেন।