ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধে উত্তপ্ত হরমুজ প্রণালী! ভারতকে বড় ছাড় আমেরিকার

নিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে ঘনীভূত হচ্ছে জ্বালানি সংকট। ইরান, আমেরিকা ও ইজরায়েলের ত্রিমুখী সংঘাতের জেরে বর্তমানে কার্যত অচল কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী। এই উত্তাল পরিস্থিতির মাঝেই ভারতের জন্য এল স্বস্তির খবর। নয়াদিল্লির জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রুশ তেল আমদানিতে ভারতকে বিশেষ ছাড় দিল ওয়াশিংটন।
আমেরিকার সুর নরম
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যৌথ সামরিক অভিযানের পর থেকেই পারস্য উপসাগরে উত্তেজনা তুঙ্গে। এই ডামাডোলের জেরে সমুদ্রে আটকে পড়া ভারতীয় তেলবাহী জাহাজগুলি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, বিশ্ববাজারে তেলের জোগান স্বাভাবিক রাখতে ভারতীয় শোধনাগারগুলিকে আগামী ৩০ দিনের জন্য বিশেষ ছাড় দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন।
কেন এই সিদ্ধান্ত?
মার্কিন প্রশাসনের দাবি, ইরান বিশ্বজুড়ে যে জ্বালানি সংকট তৈরির চেষ্টা করছে, তা রুখতেই এই অস্থায়ী ব্যবস্থা। তবে ওয়াশিংটন স্পষ্ট করেছে, এই ছাড় শুধুমাত্র সেইসব রুশ তেলের জন্য যা বর্তমানে সমুদ্রে আটকে আছে। এর মাধ্যমে রাশিয়া খুব বেশি আর্থিক মুনাফা করতে পারবে না বলেই মত আমেরিকার।
ভারতের রণকৌশল
ভারত তার মোট তেল আমদানির প্রায় ৪০ শতাংশ এই অঞ্চল থেকেই সংগ্রহ করে। তবে যুদ্ধের এই আবহেও মোদী সরকার যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী। সরকারি সূত্রের খবর:
- ভারত প্রতিদিন দু’বার করে দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে।
- বর্তমানে ভারতের তেলের মজুত ভান্ডার যথেষ্ট শক্তিশালী।
- রাশিয়া ছাড়াও বিকল্প সরবরাহকারী দেশগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে নয়াদিল্লি।
আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তির জেরে রুশ তেল কেনা নিয়ে কিছুটা চাপ থাকলেও, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ভারতের কৌশলগত অবস্থানকে মান্যতা দিতে বাধ্য হল হোয়াইট হাউস। আপাতত এক মাসের এই বিশেষ উইন্ডো ব্যবহার করে আটকে থাকা তেল দ্রুত বন্দরে পৌঁছানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে ভারত।